Tech News

Introduction about Deep and Dark web

আপনি জানেন কি ! গুগল আপনার কোন key word search এর বিপরিতে যে লক্ষ লক্ষ তথ্য পরিবেশন করে তা ইন্টারনেট দুনিয়ার সকল তথ্যর ৫ থেকে ১০ শতাংশ । বাকি ৯০-৯৫ শতাংশ লুকায়েত থাকে ডার্ক ওয়েব ও ডিপ ওয়েবে । 

ওয়েব দুনিয়া কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় । Surface web, Deep web এবং Dark web. আপনি আমি সাধারন ভাবে যে সাইট গুলো ভিজিট করতে পারি তাই Surface web, এখানে প্রায় সব কিছুই বৈধ । ইন্টারনেট দুনিয়া কে বিবেচনা করা হয় অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের নিমজ্জিত বরফের পাহাড় হিসেবে। যার উপরের দৃশ্যমান অংশের কয়েক গুন দুবে থাকে পানির নিচে। Deep web সেই অংশ যা সর্ব সাধারনের প্রবেশ নিষেধ । এখানে যেতে প্রয়োজন হবে বিশেষ সফটওয়্যারের এবং জানতে হবে সাইট এর ঠিকানা । Deep web এ প্রবেশের জন্য দরকার হবে onion Router বা Tor Browser । 

এখানে রয়েছে আপনার অজানা অনেক তথ্য। সাম্প্রতি ওয়িকিলিক্স যেসব তথ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার যে ঝড় তুলেছে সেসব তথ্য অনেক আগে থেকেই Deep web এ ছিল। এখানে পাওয়া যাবে কপিরাইট বই, নতুন গানের এ্যালবাম সহ সরকারি ও অনেক প্রাতিষ্ঠানিক গোপন তথ্য।



 সার্চ ইঞ্জিনের  crawler machine বা সার্চ মেশিন এই অংশের ঠিকানা গুলো খুজে পায় না। ব্যবহার কারি তার ঠিকানা লুকিয়ে রাখে। মূলত US Navy তার গোপনীয় তথ্য সর্বসাধারণের কাছথেকে লুকিয়ে রাখতে প্রথম Deep web ব্যবহার করে।  

Dark web নাম থেকেই বোঝা যায় এটি অন্ধকার জগত। এখানে ভিজিট করা অবৈধ । হ্যাকিং টুলস, শিশু পর্ণ , অবৈধ অস্ত্র, ভাড়াটে খুনি কি নেই এখানে। রয়েছে রেড রুম যেখানে লাইভ টর্চার দেখানো হয় । আর এখানে লেনদেন হয় বিটকয়েনে । জগতের সকল অবৈধ জিনিসের স্তর রুম এটি। 

ডার্কনেট ওয়েবসাইট গুলো শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক যেমন টর (“অনিয়ন রাউটার”) এবং আইটুপি (“অদৃশ্য ইন্টারনেট প্রজেক্ট”)। টর ব্রাউজার এবং টর-অ্যাক্সেসযোগ্য সাইটগুলো ডার্কনেট ব্যবহারকারীদের দ্বারা ব্যাপক ভাবে ব্যবহারিত হয় এবং যা “.onion” ডোমেইন দ্বারা সনাক্ত করা সম্ভব। টর ব্যবহারকারীদের অজ্ঞাতপরিচয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ প্রদানের উপর গুরুত্ব প্রদান করে এবং আইটুপি অজ্ঞাতপরিচয়ে ডার্কনেটে ওয়েবসাইট হোস্টিং এর উপর গুরুত্ব দেয়। ডার্কনেট ব্যবহারকারীদের পরিচয় এবং অবস্থান স্তরবিশিষ্ট এনক্রিপশন সিস্টেমের কারনে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। ডার্কনেট এনক্রিপশন প্রযুক্তি তথ্যকে বড় সংখ্যক মাধ্যমিক সার্ভারের মধ্য দিয়ে যায়, যা ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপনের সুরক্ষা প্রদান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় নিশ্চিতা দেয়। প্রেরিত তথ্য শুধুমাত্র পরিকল্পনাতে একটি পরবর্তী নোডের মাধ্যমে ডিক্রিপ্ট করা যায় যা প্রস্থান নোডের দিকে যায়। একটি জটিল সিস্টেম নোড পুনর্গঠন এবং লেয়ার বাই লেয়ার মেনে চলে তথ্য ডিক্রিপ্ট করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে।  উচ্চ স্তরের এনক্রিপশনের কারনে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর আইপি এবং ভূঅবস্থান ট্র্যাক করতে সক্ষম হয় না এবং ব্যবহারকারীও হোস্টের ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হয়। এইভাবেই ডার্কনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যকার যোগাযোগ যেমন কথা বলা, ব্লগিং এবং ফাইল আদান প্রদান অত্যন্ত নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার সাথে সম্পন্ন করা হয়।


ডার্কনেট বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপ যেমন অবৈধ বাণিজ্য, ফোরাম, পেডোপিলিসদের (একজন ব্যক্তি যিনি শিশুদের প্রতি যৌন আকৃষ্ট হন) জন্য মিডিয়া বিনিময় এবং সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতেও ব্যবহার করা হয়।
একই সময়ে, কিছু প্রথাগত ওয়েবসাইট টর ব্রাউজারের জন্য বিকল্প প্রবেশপথ তৈরি করে, এর মাধ্যমে ডার্কনেটের ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া যায়। যেমন, প্রোপাব্লিকা নামে একটি সংবাদপত্র টর ব্যবহারকারীদের জন্য তাদের ওয়েবসাইটের একটি নতুন সংস্করণ চালু করে।


ডার্কনেট মার্কেট



বাণিজ্যিক ডার্কনেট মার্কেট, যা অবৈধ ওষুধের মধ্যস্থতা লেনদেনের জন্য এবং অন্যান্য পণ্য যা উল্লেখযোগ্য মিডিয়া কভারেজ পেয়ে সিল্ক রোড এবং ডায়াবোলাস বাজার এর জনপ্রিয়তার সঙ্গে শুরু হয়েছিলো। তা পরবর্তীতে আইনি কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয়।  অন্যান্য বাজারে বিক্রি সফটওয়্যার কীর্তিকলাপ এবং অস্ত্র বিক্রি করা হয়। ডার্ক ওয়েব বাজারের পণ্যের দাম বনাম বাস্তব জীবনের বাজারে বা ওভার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের বাজারের পণ্যের দামের তুলনা করা, সেইসাথে পণ্যের মানের উপর গবেষণা করার জন্য একটি পরীক্ষা চালানো হয়। এরকম একটি গবেষণা চালানো হয়েছিলো সেসব অবৈধ বাজারে প্রাপ্ত অবৈধ ওষুধের মানের উপর, তখনকার অত্যন্ত জনপ্রিয় ক্রাইপ্টোমার্কেট যা জানুয়ারি ২০১৪ থেকে মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত। বিশ্লেষণাত্মক ফলাফলের একটি উদাহরণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে, ডিজিটাল তথ্য যেমন গোপনীয়তার পদ্ধতি এবং দেশে অনুযায়ী রপ্তানি সঠিক দেখায়, কিন্তু অবৈধ ওষুধের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা দেখতে গিয়ে দেখা যায়, ওষুধের তথ্য তাদের তালিকায় দেয়া তথ্য থেকে ভিন্ন। এইসব মার্কেটে ভোক্তার প্রবেশ নিয়ে প্রেরণা প্রাপ্তি এবং এ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অল্প জানা গেছে।

হ্যাকিং গ্রুপ এবং সেবা সমূহ



অনেক হ্যাকার তাদের সেবা স্বতন্ত্রভাবে অথবা দলের একটি অংশ হিসেবে বিক্রি করে।  এমন গ্রুপের মধ্যে রয়েছে xDedic, hackforum, Trojanforge, Mazafaka, dark0de এবং TheRealDeal ডার্কনেট মার্কেট।  কেউ কেউ আবার পেডোপিলিসদের ট্র্যাক এবং তাদের কাছ থেকে জোর পূর্বক আদায় করার জন্য পরিচিত হয়েছে.আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক সম্পর্কিত সাইবার অপরাধ এবং হ্যাকিং এর সেবাও ডার্ক ওয়েবে পাওয়া যায়।  বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা এই সকল কার্যক্রমের উপর নজর রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ পরীক্ষণ সম্পন্ন করার জন্য যেসকল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, তার তালিকা প্রসেডিয়া কম্পিউটার সাইন্স জার্নালে পাওয়া যাবে। ইন্টারনেট-স্কেল ডিএনএস এর ব্যবহার ডিস্ট্রিবুটেড রিফ্লেকশন ডেনিয়াল অফ সার্ভিস (ডিআরডিওএস) আক্রমন করা হয় ডার্ক ওয়েবকে উপজীব্য করার মাধ্যমে।  অনেক হ্যাকিং গ্রুপ যেমন, কোডঃগ্রিন হ্যাকারদের যোগ্যতার উপর নির্ভর করে তাদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। সেখানে অনেক প্রতারনা মূলক *.onion সাইট রয়েছে যারা সফটওয়্যার ডাউনলোড সুবিধা দিয়ে থাকে, তবে সেসব সফটওয়্যার ট্রোজান হর্স অথবা ব্যাকডোর দ্বারা আক্রান্ত থাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.